বর্তমানে কেন হঠাৎ ইউরোপ ইসরাইলের বিরুদ্ধে?এটি কি নিছক নাটক, নাকি কোনো সত্য উন্মোচনের অপেক্ষা?

 

বর্তমানে কেন হঠাৎ ইউরোপ ইসরাইলের বিরুদ্ধে?এটি কি নিছক নাটক, নাকি কোনো সত্য উন্মোচনের অপেক্ষা?

ইসরাইল যে ইউরোপের সহায়তায় এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, আজ সেই ইউরোপই হঠাৎ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে কেন? মুসলিম হিসেবে আমরা ইসরাইলের পরাজয়ে আনন্দিত হওয়ার পাশাপাশি এটাও ভেবে দেখা জরুরি যে, ইসলামবিদ্বেষী ইউরোপ হঠাৎ করেই কেন ইসরাইলের বিরোধিতা করছে । সত্যিই কি তারা সঠিক পথে এসেছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো পরিকল্পনা?

কারণ ইতিহাস সাক্ষী—ইউরোপ সর্বদা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষী । তাই মুসলিম বিশ্বের জন্য এই ঘটনার মূল কারণ অনুধাবন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; নইলে আবারও কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়তে হবে ।

কেন সন্দেহ করা জরুরি?

বর্তমানে সংবাদমাধ্যমে ইউরোপের ইসরাইলবিরোধিতার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে মানবতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার । কিন্তু সচেতন মুসলিমরা ভালো করেই জানেন, ইউরোপের মানবতা মানে অনেক সময় ধর্ম থেকে মানুষকে আলাদা করার নতুন চাল । তাই এ বিষয়ে গভীরে যাওয়া আবশ্যক ।

ইউরোপ-আমেরিকার তিনটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ খাত

বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের জন্য ইউরোপ (আমেরিকার সাথে মিলিত হয়ে) মূলত তিনটি শক্তি ব্যবহার করে:

১.অর্থনীতি: এখানে প্রধান হাতিয়ার হলো পেট্রোডলার— অর্থাৎ ডলারের শক্তি ।

২.প্রযুক্তি: প্রধান হাতিয়ার হলো টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো ও তাদের তৈরি ইলেকট্রনিক ডিভাইস/সেবা ।

৩.সামরিক শক্তি: মূল আলোচ্য বিষয় এটিই। বর্তমানে আমেরিকার প্রায় ৭৫০টির মতো সামরিক ঘাঁটি বিশ্বের ৮০টি দেশে রয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা দপ্তর ৪,৭৯০টি সামরিক সাইট নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে খুব কমই বলা হয় যে, ইসরাইলই আসলে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক “সম্পদ” ।

ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্ব

ইউরোপ ও আমেরিকা, যুদ্ধ এবং শান্তি— দুই পরিস্থিতি থেকেই আয় করে ।

  • যুদ্ধকালীন সময়ে: অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক শিল্পে বিশাল ব্যবসা ।
  • শান্তিকালে: প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি ।

তবে সমস্যা হলো— একপক্ষ শান্তি চাই, অন্যপক্ষ যুদ্ধ চাই। এই স্বার্থসংঘাত থেকেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এখন প্রশ্ন— এর ফলে কি ইউরোপ-আমেরিকার লাভ হচ্ছে, নাকি ক্ষতি?

আসলে এখানে একটি উচ্চতর “ইনভেস্টর পক্ষ” রয়েছে, যারা যেকোনো অবস্থাতেই লাভবান হয়।

ইসরাইল কি “বলির পাঁঠা”?

একজন বিনিয়োগকারী যদি তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন, এবং এর মধ্যে দুইটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে, তবে বিনিয়োগকারী সেই প্রতিষ্ঠানকে গুটিয়ে নিতে চাইবে যেটির মুনাফা কম, যেন বেশি লাভ দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে দেওয়া যায় ।

সম্ভবত ইসরাইলের ভাগ্যেও এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে (ইউরোপ যা ভাবছছে) । ইউরোপ মনে করছে — এখনই ইসরাইলকে “খরচ” না করলে একসময় এটি নিজের বিরোধেই ধ্বংস হয়ে যাবে ।

কিন্তু আসলেই কি ইউরোপ ইসরাইলকে বলি দিতে পারবে? এখানেই প্রশ্ন।
👉 ইসরাইলের পতন কি এখনই শুরু?
👉 নাকি এর পেছনে আরেকটি বড় খেলা লুকানো আছে?
👉 ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে কী বলা হয়েছে?

এসব বিষয়ে, ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী আলোচনায় বিস্তারিত তুলে ধরা হবে ।

One response to “বর্তমানে কেন হঠাৎ ইউরোপ ইসরাইলের বিরুদ্ধে?এটি কি নিছক নাটক, নাকি কোনো সত্য উন্মোচনের অপেক্ষা?”

  1. Khadija Avatar
    Khadija

    অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *