ডিপ্লোমা বনাম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ।

 

ডিপ্লোমা বনাম বিএসসি

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন শিক্ষার্থী দুইভাবে ইঞ্জনিয়ারিং সেক্টর এ প্রবেশ করতে পারে । সেটা সংক্ষিপ্ত আকারে দেখানো হলোঃ

১. এসএসসি পাশ -> ডিপ্লোমা ( ৪বছর) -> বিএসসি (উচ্চশিক্ষার জন্য আরো ৪ বছর) ।

২. এসএসসি -> ইন্টার (২ বছর) -> বিএসসি (৪ বছর) ।

 

এখানে লক্ষ্য করলে দুটি বিষয় দেখা যায়ঃ

১. সময়ের তারতম্যঃ

শুধু ডিপ্লোমা ৪ বছর হলেও ডিপ্লোমা+বিএসসি ৮ বছর । অন্যদিকে ইন্টার+বিএসসি ৬ বছর যা দুই বছর সময়ের ব্যবধান রয়ে যায় ।

২. শিক্ষার তারতম্যঃ

এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায় ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা ইন্টারের (নন-টেক) সিলেবাস ৩য় সেমিস্টার পর্যন্ত কিছুটা পেলেও পরিপূর্ণতা পাই না বিভিন্ন বাধার কারনে বা ডিপার্টমেন্ট প্র্যাক্টিক্যাল এর কারণে তাই এখানে বলায় যায় ডিপ্লোমার চাইতে ইন্টার+বিএসসি শিক্ষার্থী থিওরি এবং নন-টেক এ বেশ এগিয়ে তুলনামূলক ডিপ্লোমা+বিএসসির তুলনায় ।

অপরদিকে লক্ষ্য করা যায় ডিপ্লোমা একই ডিপার্টমেন্টে এ দীর্ঘ ৮ বছর পড়াশুনা করে আসছেন এবং ইন্টার+বিএসসি ডিপার্টমেন্টে মাত্র ৪ বছর পড়ার সুযোগ পান যা অনেকটাই কম হওয়াই চাইলেও এত কম সময়ে পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং জগতের থিওরি, প্র্যাক্টিক্যাল সম্ভব হয় না যার ফলে ইন্টার+বিএসসি তে সিলেবাস হয়ে যায় অধিকাংশ থিওরি এবং গবেষণা বেসিস । সুতরাং এখানে বলায় যায়; ইন্টার+বিএসসি এর চাইতে ডিপ্লোমা+বিএসসি এর শিক্ষার্থীরা ডিপার্টমেন্টাল সাবজেক্ট এর প্র্যাক্টিক্যাল বিষয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকে ।

 

মুল মন্তব্যের পূর্বে জেনে নেওয়া জরুরিঃ

সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট পদটি হলো প্র্যাক্টিক্যাল বেসিস এবং এসিস্ট্যান্ট পদ হলো অনেকটাই গবেষণা কেন্দ্রিক হওয়ায় ডিপ্লোমাকে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে এবং ইন্টার+বিএসসি কে অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আসন গ্রহণ করতে বলা হয় ।

তারপরেও দুটি বিষয় লক্ষ্য করলে বোঝায় যায়; এখানে দন্দ্ব তৈরি হওয়ার মতো বেশ কিছু জায়গা রয়ে গেছে, যেটা সমাধান করা গেলে আমি মনে করি দুই সেক্টর এর সম্মিলিত একটি সুন্দর ফলাফল আসতে পারে । চলুন উপরের দুটি বিষয় মাথাই রেখেই আমরা একটি সমাধানের দিকে এগোইঃ

১. এসএসসি ->

ডিপ্লোমা (৪ বছর = ইঞ্জিনিয়ারিং থিওরি এবং প্র্যাক্টিক্যাল বেসিস) ->

বিএসসি (১বছর নন-টেক=যেটা ইন্টারের নন-টেক এর গ্যাপ পুরন করবে + ২বছর টেক বা ডিপার্টমেন্ট এর গবেষণা বেসিস) = মোট ৭ বছর ।

২. এসএসসি ->

ইন্টার (২বছর = নন-টেক ক্লিয়ার) ->

ডিপ্লোমা (সরাসরি ৩য় সেমিস্টার এ যোগদান, ৩বছর = ইঞ্জিনিয়ারিং থিওরি এবং প্র্যাক্টিক্যাল বেসিস) ->

বিএসসি (২বছর টেক বা ডিপার্টমেন্ট এর গবেষণা বেসিস) = মোট ৭ বছর ।

 

এতে করে আমার মনে হয় পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং অনেকগুলো সমস্যার সমাধান বয়ে আনবে । যেমনঃ

১. দশম এবং ৯ম এ উভয়ে এপ্লাই এবং প্রমোশন পেতে পারবে এবং এতে কোনো দ্বিমত থাকার কথা না ।

২. একই ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিতে একই এলাইনে সকলেই একত্রিত হতে পারবে ।

৩. নামের সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহারে আমরা ছোট একটি বিষয় বিবেচনা করতে পারি ।

 

ডিপ্লোমা পাশ -> আইডিইবি মেম্বারশিপ -> নামের সাথে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ।

বিএসসি -> নিজ ডিপার্টমেন্টে ৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ->

জাতীয়ভাবে পরীক্ষায় অংশ ->

পাশ হলে -> নামের সাথে ইঞ্জিনিয়ার বৈধতা ।

এতে পাবলিক এর পাশাপাশি প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে বিএসসি সর্ম্পূণ করা শিক্ষার্থীরাও একটি সুযোগ পাবেন, এবং সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হতে পারে ।

 

~ মোঃ বখতিয়ার মুজাহিদ হাবিব
ডিপ্লোমা প্রকৌশলী

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *